অপরিচিতা গল্পের মূলভাব, কাহিনি ও চরিত্র বিশ্লেষণ

প্রকাশ: ৭ আগস্ট ২০২৬ · এইচএসসি

সংক্ষেপেঅপরিচিতা গল্পের মূলভাব কী, কাহিনির ধারা, প্রধান চরিত্র, নামকরণের সার্থকতা এবং পরীক্ষার জন্য অনুশীলনী প্রশ্নোত্তর এই লেখায় গুছিয়ে দেওয়া হলো।

এইচএসসির বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অপরিচিতা এমন একটি গল্প, যা একবার পড়লে সহজে ভোলা যায় না। যৌতুকপ্রথা, পুরুষের নিজস্ব সিদ্ধান্তহীনতা আর নারীর আত্মমর্যাদা, তিনটি বিষয় এখানে একসঙ্গে ধরা পড়েছে। এই লেখায় গল্পের মূলভাব, কাহিনির ধারা, চরিত্র, নামকরণ আর পরীক্ষার জন্য অনুশীলনী প্রশ্নোত্তর সাজিয়ে দেওয়া হলো।

লেখক ও গল্পের প্রসঙ্গ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের কবি, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক। ছোটগল্পের ক্ষেত্রে তাঁকে বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান স্রষ্টা মনে করা হয়। অপরিচিতা প্রকাশিত হয় প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায়, ১৯১৪ সালে। গল্পটি লেখা হয়েছে উত্তম পুরুষে, অর্থাৎ নায়ক অনুপম নিজেই নিজের কথা বলে যাচ্ছে।

এই বর্ণনারীতির একটি বিশেষ সুবিধা আছে। অনুপম নিজের দুর্বলতা আর ভুলগুলো নিজের মুখেই স্বীকার করে, ফলে পাঠক কথকের প্রতি যতটা না বিরক্ত হয়, তার চেয়ে বেশি ভাবনায় পড়ে যায়। কথকের স্বীকারোক্তির ভেতর দিয়েই সমাজের ছবি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

কাহিনির সারসংক্ষেপ

অনুপম শিক্ষিত যুবক, কিন্তু নিজের জীবনের কোনো সিদ্ধান্তই সে নিজে নিতে পারে না। তার আসল অভিভাবক মামা। বিয়ের কথাবার্তা থেকে শুরু করে সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতে। মামা অর্থ আর হিসাবকে সবচেয়ে বড় করে দেখেন, আর নিজেকে খুব বুদ্ধিমান বলে ভাবেন।

অনুপমের বন্ধু হরিশ কানপুরে কাজ করে। তার মাধ্যমেই কল্যাণী নামের একটি মেয়ের সন্ধান আসে। মেয়েটির বাবা শম্ভুনাথ সেন পেশায় ডাক্তার। বিয়ের আয়োজন এগোতে থাকে, কিন্তু মামার আচরণ আর দাবিদাওয়া ক্রমশ কন্যাপক্ষের জন্য অপমানজনক হয়ে ওঠে।

বিয়ের দিন গয়না যাচাইয়ের প্রসঙ্গে ঘটনা চরমে পৌঁছায়। শম্ভুনাথ সেন বুঝতে পারেন, যে পাত্রের নিজের কোনো মত নেই আর যার পরিবার মেয়ের চেয়ে গয়নার দিকে বেশি তাকায়, তার হাতে কন্যা সম্প্রদান করা যায় না। বিয়ে ভেঙে যায়। এর পর কল্যাণী বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং মেয়েদের শিক্ষার কাজে নিজেকে নিযুক্ত করে। বছর পেরিয়ে অনুপম তার মুখোমুখি হয়, তখন তার অনুশোচনা প্রবল, কিন্তু সময় আর ফেরানো যায় না।

প্রধান চরিত্র

চরিত্রপরিচয় ও বৈশিষ্ট্য
অনুপমকথক ও নায়ক; শিক্ষিত হয়েও মা ও মামার ওপর নির্ভরশীল, ব্যক্তিত্বহীন
মামাঅনুপমের আসল অভিভাবক; অর্থলোভী, আত্মম্ভরী, বিয়ের নিয়ন্ত্রক
হরিশঅনুপমের বন্ধু; কানপুরে কর্মরত, রসিক ও আড্ডাপ্রিয়
শম্ভুনাথ সেনকল্যাণীর বাবা; ডাক্তার, আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন ও দৃঢ়চেতা
কল্যাণীগল্পের নারী চরিত্র; আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, স্বাধীনচেতা, শিক্ষাব্রতী

অনুপমের চরিত্র

অনুপমের সবচেয়ে বড় সমস্যা তার ব্যক্তিত্বের অভাব। সে লেখাপড়া জানে, কিন্তু সেই শিক্ষা তাকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সাহস দেয়নি। বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও সে মামার ইচ্ছার বাইরে এক পা বাড়াতে পারে না। পরে তার অনুশোচনাই প্রমাণ করে, সে ভুলটা বুঝেছিল, কিন্তু সাহস দেখাতে পারেনি।

কল্যাণীর চরিত্র

কল্যাণী গল্পে সরাসরি খুব বেশি কথা বলে না, তবু তার সিদ্ধান্তই গল্পের প্রধান শক্তি। অপমানের মধ্যে থেকেও সে ভেঙে পড়ে না। বরং নিজের জীবনের পথ নিজেই বেছে নেয়। এই দৃঢ়তা তাকে সেই সময়ের নারীদের মধ্যে ব্যতিক্রমী করে তুলেছে।

মামা ও শম্ভুনাথ সেন

মামা আর শম্ভুনাথ সেন যেন দুটি বিপরীত মূল্যবোধের প্রতিনিধি। একজন সম্পর্কের চেয়ে সম্পদকে বড় ভাবেন, অন্যজন সম্পদের চেয়ে সম্মানকে। গল্পের সংঘাতটাও মূলত এই দুই দৃষ্টিভঙ্গির সংঘাত।

গল্পের মূলভাব

অপরিচিতা গল্পের মূলভাব হলো, যৌতুকের লোভ ও ব্যক্তিত্বহীন পুরুষের বিপরীতে নারীর আত্মমর্যাদা ও স্বাধীন সিদ্ধান্তের জয়। বিয়েকে এখানে লেনদেনের বিষয় হিসেবে দেখা হয়েছে, আর লেখক দেখিয়েছেন, এমন মানসিকতা মানুষের সম্মান নষ্ট করে।

গল্পের আরেকটি দিক হলো ভদ্রতার মুখোশ। মামা নিজেকে সমাজের মান্য ও বিচক্ষণ মানুষ ভাবেন, অথচ তাঁর আচরণে সৌজন্যের বদলে হিসাবি মনোভাবই প্রকট। অন্যদিকে যাঁকে তিনি সহজে মাপতে চান, সেই শম্ভুনাথ সেন শান্ত ভঙ্গিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেন, যা মামার সব হিসাব উল্টে দেয়। এই বৈপরীত্য পাঠককে বুঝিয়ে দেয়, আসল শক্তি উচ্চস্বরে নয়, নীতিতে অটল থাকার মধ্যে।

গল্পের পরিণতিও লক্ষ করার মতো। লেখক কোনো নাটকীয় প্রতিশোধ দেখাননি। অনুপমের শাস্তি বাইরে থেকে আসে না, আসে তার নিজের ভেতর থেকে, অনুশোচনা হয়ে। ফলে গল্পটি উপদেশ না দিয়েও পাঠককে নৈতিক প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়, আর সেই কারণেই এটি এত দিন পরেও পাঠ্যসূচিতে প্রাসঙ্গিক থেকে গেছে।

নামকরণের সার্থকতা

নামের অপরিচিতা শব্দটির একটি গভীর অর্থ আছে। অনুপম কল্যাণীকে সামান্যই দেখেছিল, তাই বাইরে থেকে সে অপরিচিতই ছিল। কিন্তু আসল কথা, অনুপম তার ব্যক্তিত্ব, মূল্যবোধ আর দৃঢ়তাকে কখনো চিনতেই পারেনি। সেই না-চেনার বেদনাই গল্পের শিরোনামে ধরা আছে। এ কারণে নামটিকে ব্যঞ্জনাময় ও সার্থক বলা যায়। কল্যাণী পুরো গল্পে তার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পাঠকের কাছেও এক অন্যরকম পরিচয়ে উঠে আসে।

ভাষা ও শিল্পরূপ

গল্পের ভাষা সহজ ও চলিত রীতির কাছাকাছি, যদিও এতে রবীন্দ্রনাথের স্বাভাবিক কাব্যিক ছোঁয়াও আছে। প্রথম পুরুষের বদলে উত্তম পুরুষে বলার ফলে অনুপমের আত্মসমালোচনামূলক সুর পাঠককে কাছে টানে। হালকা ব্যঙ্গও আছে, বিশেষ করে মামার আচরণ বর্ণনায়। এই ব্যঙ্গই গল্পকে শুধু করুণ কাহিনি হতে দেয়নি, বরং সমাজসমালোচনার ধার দিয়েছে।

পরীক্ষায় মূলভাব লেখার সময় যৌতুক, আত্মমর্যাদা আর ব্যক্তিত্বহীনতা, এই তিনটি শব্দ অন্তত একবার করে ব্যবহার করুন।

অনুশীলনী প্রশ্নোত্তর

নিচের প্রশ্নোত্তরগুলো অনুশীলনের জন্য নিজের ভাষায় সাজানো। পরীক্ষায় লেখার আগে নিজের পাঠ্যবইয়ের তথ্য মিলিয়ে নেবেন।

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

  1. অপরিচিতা গল্পের লেখক কে? উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
  2. গল্পটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়? উত্তর: সবুজপত্র।
  3. সবুজপত্রের সম্পাদক কে ছিলেন? উত্তর: প্রমথ চৌধুরী।
  4. গল্পের কথক কে? উত্তর: অনুপম।
  5. অনুপমের আসল অভিভাবক কে? উত্তর: তার মামা।
  6. কল্যাণীর বাবার নাম কী? উত্তর: শম্ভুনাথ সেন।
  7. হরিশ কোথায় কাজ করত? উত্তর: কানপুরে।

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

  1. অনুপমকে ব্যক্তিত্বহীন বলা হয় কেন? উত্তর: সে শিক্ষিত হলেও নিজের জীবনের কোনো সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারে না। বিয়ে সহ সব বিষয়ে সে মামার মতের ওপর নির্ভর করে।
  2. শম্ভুনাথ সেন বিয়ে ভেঙে দিলেন কেন? উত্তর: গয়না যাচাইয়ের মতো অপমানজনক আচরণ আর পাত্রের নিজস্ব মতের অভাব দেখে তিনি বুঝেছিলেন, এখানে মেয়ের সম্মান নিরাপদ নয়।
  3. মামাকে অর্থলোভী বলা যায় কেন? উত্তর: তাঁর কাছে বিয়ের চেয়ে লেনদেন ও যাচাই-বাছাই বড়। কন্যার চেয়ে গয়নার মূল্যই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষণমূলক প্রশ্ন

  1. কল্যাণীর সিদ্ধান্তকে কেন দৃঢ়তার প্রকাশ বলা যায়? উত্তর: অপমানজনক পরিস্থিতিতে সে আপস করেনি এবং বিয়ের বদলে মেয়েদের শিক্ষার কাজকে বেছে নিয়েছে। এটি তার আত্মমর্যাদা ও স্বাধীন চিন্তার পরিচয়।
  2. গল্পের নামকরণ কতটা যথার্থ? উত্তর: অনুপম কল্যাণীর বাহ্যিক পরিচয় জানলেও তার অন্তরের শক্তিকে কখনো চেনেনি। এই অচেনাই গল্পের মূল বেদনা, তাই অপরিচিতা নামটি অর্থবহ।
  3. গল্পে যৌতুকপ্রথার সমালোচনা কীভাবে এসেছে? উত্তর: মামার দাবি, গয়না যাচাই আর কন্যাপক্ষের অপমান, এই ঘটনাগুলোর মধ্য দিয়ে লেখক দেখিয়েছেন, লোভ কীভাবে সম্পর্ককে বিকৃত করে।
  4. অনুপমের অনুশোচনা গল্পের কোন বার্তা বহন করে? উত্তর: এটি দেখায়, সময়মতো সাহস না দেখালে পরে আফসোস ছাড়া কিছু থাকে না। নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার গুরুত্বই এখানে প্রধান।
  5. মামা ও শম্ভুনাথ সেনের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য কী? উত্তর: মামা অর্থ ও যাচাইকে বড় করে দেখেন, আর শম্ভুনাথ সেন কন্যার সম্মান ও মানবিক মর্যাদাকে। দুজনের এই পার্থক্যই গল্পের সংঘাতের মূল কারণ।
  6. উত্তম পুরুষে লেখার সুবিধা কী? উত্তর: কথক নিজের ভুল নিজেই স্বীকার করে, ফলে ঘটনার আন্তরিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে।

সৃজনশীল প্রশ্নের জন্য ছোট পরামর্শ

উদ্দীপকে যদি কোনো মেয়ের পণের কারণে বিয়ে ভাঙার ঘটনা থাকে, তবে প্রথমে মিল দেখান: দুই ক্ষেত্রেই যৌতুকের লোভ ও নারীর অবস্থান ফুটে উঠেছে। তারপর অমিল দেখান, যেমন গল্পে পাত্র নিজে নীরব, কিন্তু উদ্দীপকে সে ভিন্ন আচরণ করতে পারে। শেষে নিজের মূল্যায়ন এক-দুই বাক্যে লিখুন।

পরীক্ষার প্রস্তুতির কৌশল

গল্পটি মনে রাখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ঘটনাগুলোকে ক্রমানুসারে সাজানো: অনুপমের পরিচয়, মামার প্রভাব, হরিশের মাধ্যমে পাত্রীর সন্ধান, বিয়ের আয়োজন, গয়না নিয়ে বিতর্ক, বিয়ে ভাঙা এবং কল্যাণীর নতুন পথ। প্রতিটি ধাপের পাশে একটি করে চরিত্রের নাম লিখে রাখলে মনে রাখা সহজ হয়।

বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য নাম, স্থান আর প্রকাশনার তথ্যে বিশেষ নজর দিন। অনুধাবনমূলক উত্তরে এক-দুই অনুচ্ছেদেই কারণ ও ফলাফল দেখালে যথেষ্ট। সৃজনশীল উত্তরে গল্পের চরিত্রের আচরণ উদ্ধৃত না করে নিজের ভাষায় বিশ্লেষণ করাই ভালো। একই সঙ্গে গাইড বইয়ের তথ্যে ভিন্নতা পেলে নিজের পাঠ্যবইয়ের তথ্যকেই প্রাধান্য দিন, কারণ বয়স বা ছোটখাটো বিবরণ নিয়ে কিছু সহায়ক বইয়ে অসঙ্গতি দেখা যায়।

লেখার অনুশীলনের সময় একটি সহজ ছক কাজে লাগে। প্রথমে প্রশ্নের মূল শব্দটি চিহ্নিত করুন, যেমন চরিত্র, নামকরণ বা মূলভাব। তারপর গল্পের একটি ঘটনা মনে করে সেটিকে যুক্তি হিসেবে বসান। সবশেষে নিজের মূল্যায়ন এক বাক্যে লিখে দিন। সপ্তাহে দুই-তিনবার এভাবে নিজের লেখা উত্তর মিলিয়ে দেখলে ভুল ধরা পড়ে এবং সময়ের হিসাবও ঠিক থাকে। বন্ধুদের সঙ্গে প্রশ্ন বিনিময় করে আলোচনা করাও খুব উপকারী, কারণ একই বিষয়ে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ জানা যায়।

শেষ কথা

অপরিচিতা আমাদের শেখায়, সম্পর্ক আর সম্মান কখনো লেনদেনের জিনিস হতে পারে না। অনুপমের অনুশোচনা আর কল্যাণীর দৃঢ়তা, এই দুইয়ের তুলনাই গল্পের মূল শক্তি। পরীক্ষার জন্য কাহিনির ক্রম, চরিত্রের বৈশিষ্ট্য, মূলভাব আর নামকরণ ভালোভাবে গুছিয়ে নিন। আর একবার নিজের ভাষায় গল্পটি বলে দেখুন, তাহলে মনে রাখা অনেক সহজ হবে।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

অপরিচিতা গল্পের লেখক কে?

অপরিচিতা গল্পের লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। গল্পটি ১৯১৪ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

অপরিচিতা গল্পের মূলভাব কী?

মূলভাব হলো যৌতুকপ্রথা ও ব্যক্তিত্বহীন পুরুষের বিপরীতে নারীর আত্মমর্যাদা ও স্বাধীন সিদ্ধান্তের জয়।

অপরিচিতা গল্পের কথক কে?

গল্পের কথক অনুপম। সে উত্তম পুরুষে নিজের কাহিনি বলে এবং নিজের দুর্বলতাও স্বীকার করে।

শম্ভুনাথ সেন কে?

তিনি কল্যাণীর বাবা ও পেশায় ডাক্তার। অপমানজনক আচরণের কারণে তিনি বিয়ে ভেঙে দেন।

অপরিচিতা নামকরণ কেন সার্থক?

অনুপম কল্যাণীর ব্যক্তিত্ব ও মূল্যবোধকে কখনো চিনতে পারেনি। এই না-চেনার বেদনাই শিরোনামে ব্যঞ্জিত হয়েছে।