বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবনী ও সাহিত্যকর্ম

প্রকাশ: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · কবি ও সাহিত্যিক

সংক্ষেপেবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শৈশব, শিক্ষা, চাকরি, উপন্যাস, বঙ্গদর্শন পত্রিকা, বন্দে মাতরম গান এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর স্থান এক জায়গায় গুছিয়ে পাবেন।

আধুনিক বাংলা উপন্যাসের কথা উঠলে প্রথম যে নামটি আসে, সেটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবনী পড়লে বোঝা যায়, একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে অবসরের ফাঁকে বাংলা গদ্যকে নতুন রূপ দিলেন এবং গল্প বলার একটি স্থায়ী ধারা তৈরি করলেন। পরীক্ষার প্রস্তুতি হোক বা সাধারণ জানার আগ্রহ, এই লেখায় আপনি তাঁর জন্ম ও শিক্ষা থেকে শুরু করে সাহিত্যকর্ম, পত্রিকা সম্পাদনা, জাতীয়তাবাদী ভাবনা ও উত্তরাধিকার পর্যন্ত গুছিয়ে জানতে পারবেন।

জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়

বঙ্কিমচন্দ্রের জন্ম ১৮৩৮ সালের জুন মাসে, অবিভক্ত বাংলার চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটির কাঁটালপাড়া গ্রামে। তাঁর বাবা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সরকারি চাকরিতে ডেপুটি কালেক্টর পদে ছিলেন। পরিবারটি ছিল শিক্ষিত ও রক্ষণশীল ব্রাহ্মণ পরিবার। ভাইদের মধ্যে সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও পরে লেখক হিসেবে পরিচিত হন এবং বঙ্গদর্শনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

জন্মতারিখ নিয়ে বিভিন্ন বইয়ে ২৬ বা ২৭ জুনের উল্লেখ দেখা যায়। তাই পরীক্ষায় তারিখ লেখার আগে আপনার পাঠ্যবইয়ে কোন তারিখ দেওয়া আছে, তা মিলিয়ে নেওয়া ভালো। সাল ১৮৩৮ নিয়ে অবশ্য কোনো সংশয় নেই।

শিক্ষা ও সরকারি চাকরি

শিক্ষাজীবন

শৈশবে তিনি মেদিনীপুরে থেকে পড়াশোনা করেন, কারণ বাবার কর্মস্থল ছিল সেখানে। পরে হুগলি কলেজে ভর্তি হয়ে ভালো ছাত্র হিসেবে নাম করেন। এরপর তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়েন। ১৮৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিকের স্নাতকদের একজন হিসেবে বিএ ডিগ্রি পান। তাঁর সঙ্গে যদুনাথ বসুর নামও এই প্রথম দুই স্নাতক হিসেবে উচ্চারিত হয়। এই শিক্ষার সূত্রেই ইংরেজি সাহিত্য ও পাশ্চাত্য চিন্তার সঙ্গে তাঁর গভীর পরিচয় ঘটে, যা পরে তাঁর উপন্যাসের কাঠামো ও ভাবনায় ছাপ ফেলেছে।

লেখালেখির শুরুটা হয়েছিল ছাত্রজীবনেই। তিনি প্রথমে কবিতা লিখতে চেয়েছিলেন, তাঁর প্রথম বই ছিল পদ্য-সংকলন। কিন্তু অল্প দিনেই বোঝা গেল, তাঁর আসল শক্তি গদ্যে।

সরকারি চাকরি

স্নাতক হওয়ার পর তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর হিসেবে ব্রিটিশ সরকারের চাকরিতে যোগ দেন। প্রায় তিন দশকের কর্মজীবনে তাঁকে বাংলার নানা জেলায় বদলি হতে হয়েছে। যশোর, খুলনা, মুর্শিদাবাদ, হাওড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে সমাজ ও মানুষকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ দিয়েছে। ১৮৯১ সালে তিনি চাকরি থেকে অবসর নেন।

একটি বিষয় এখানে লক্ষ করার মতো। উপনিবেশী শাসনের কর্মচারী হয়েও তিনি নিজের লেখায় জাতীয় আত্মমর্যাদা ও ইতিহাসচেতনার প্রশ্ন তুলেছিলেন। এই দ্বন্দ্ব তাঁর জীবন ও সাহিত্য আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

চাকরির চাপ থাকা সত্ত্বেও তিনি লেখার সময় বের করে নিতেন। দিনের কাজ সামলে রাতের নিস্তব্ধ সময়ে বা ছুটির অবসরে তিনি একের পর এক উপন্যাস ও প্রবন্ধ লিখেছেন। কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে গ্রামবাংলার মানুষ, জমিদারি ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক জটিলতা দেখার সুযোগ, তাঁর কাহিনির পটভূমি তৈরিতে কাজে লেগেছে বলে অনেক আলোচক মনে করেন।

উপন্যাস ও অন্যান্য রচনা

বঙ্কিমচন্দ্রের সাহিত্যজীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অংশ তাঁর উপন্যাস। তাঁর প্রথম উপন্যাস ইংরেজিতে লেখা, নাম Rajmohan's Wife। বাংলায় তাঁর প্রথম উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনী ১৮৬৫ সালে প্রকাশিত হয়। এই বই বাংলা কথাসাহিত্যে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়। নিচের তালিকায় তাঁর কয়েকটি পরিচিত রচনার ধরন দেওয়া হলো।

রচনাসাধারণ ধরন
দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫)ঐতিহাসিক রোমান্স; তাঁর প্রথম বাংলা উপন্যাস
কপালকুণ্ডলারোমান্টিক ও রহস্যময় আবহের আখ্যান
মৃণালিনীঐতিহাসিক পটভূমির প্রণয়কাহিনি
বিষবৃক্ষপারিবারিক ও সামাজিক উপন্যাস
কৃষ্ণকান্তের উইলপারিবারিক সম্পর্ক ও নৈতিক সংকটের কাহিনি
আনন্দমঠস্বদেশচেতনামূলক ও ইতিহাসাশ্রিত উপন্যাস
দেবী চৌধুরাণীআদর্শ ও কর্মনিষ্ঠার ভাবনায় লেখা আখ্যান
সীতারামইতিহাস ও আদর্শবাদ মেশানো উপন্যাস

বঙ্কিমের উপন্যাসগুলিকে মোটামুটি তিনটি ধারায় ভাগ করে পড়া যায়: ঐতিহাসিক রোমান্স, সামাজিক-পারিবারিক উপন্যাস এবং আদর্শ বা স্বদেশচেতনা-প্রধান উপন্যাস। এই ভাগ কঠোর নয়, কারণ একই বইয়ে একাধিক ধারার ছাপ থাকতে পারে। তবু পরীক্ষায় তুলনামূলক প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় এই শ্রেণিবিন্যাস আপনার কাজে লাগবে। যেমন দুর্গেশনন্দিনী ও মৃণালিনী প্রথম ধারায়, বিষবৃক্ষ ও কৃষ্ণকান্তের উইল দ্বিতীয় ধারায়, আর আনন্দমঠ ও সীতারাম তৃতীয় ধারার দিকে ঝোঁকা।

উপন্যাসের বাইরেও তিনি প্রবন্ধ ও রম্যরচনা লিখেছেন। কমলাকান্তের দপ্তর একটি বিশেষ ধরনের রম্যরচনা, যেখানে ব্যঙ্গ ও দার্শনিকতা পাশাপাশি চলে। লোকরহস্য ও কৃষ্ণচরিত্র তাঁর অন্য পরিচিত গদ্যগ্রন্থ। ধর্ম ও নীতি নিয়ে তাঁর পরবর্তী বয়সের লেখাগুলিতে অনুশীলনতত্ত্বের চিন্তা পাওয়া যায়। এসব রচনার প্রকাশসাল নিয়ে পাঠ্যবইয়ের তালিকা দেখে নেওয়া নিরাপদ।

বঙ্গদর্শন পত্রিকা

১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র মাসিক সাহিত্যপত্র বঙ্গদর্শন প্রকাশ করেন এবং শুরুতে নিজেই সম্পাদনা করেন। সেই সময় বাংলা ভাষায় গুরুগম্ভীর চিন্তার জন্য এবং সৃজনশীল সাহিত্যের জন্য নিয়মিত পত্রিকার বড় অভাব ছিল। বঙ্গদর্শন সেই শূন্যতা ভরাট করে। এখানে উপন্যাস ধারাবাহিকভাবে ছাপা হতো, ছাপা হতো প্রবন্ধ, সমালোচনা, ইতিহাস ও বিজ্ঞানবিষয়ক লেখাও। আনন্দমঠ এই পত্রিকাতেই কিস্তিতে প্রকাশিত হয়েছিল।

পত্রিকাটির বড় অবদান ছিল একটি লেখকগোষ্ঠী গড়ে তোলা। শিক্ষিত বাঙালি এখানে মাতৃভাষায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে লেখার ও পড়ার উৎসাহ পায়। পরে অন্যদের সম্পাদনায়ও পত্রিকাটি কিছুকাল চলেছিল।

বাংলা গদ্য ও উপন্যাসের বিকাশে ভূমিকা

বঙ্কিমের আগে বাংলা গদ্য একদিকে ছিল অতি সংস্কৃতঘেঁষা ও ভারী, অন্যদিকে আলাপের ভাষা ছিল হালকা। তিনি দুইয়ের মাঝখানে একটি সুষম পথ বের করলেন, যে ভাষায় গাম্ভীর্যও আছে, আবার পাঠকের সঙ্গে সহজ যোগাযোগও আছে। এতে গদ্যে বর্ণনা, সংলাপ, হাস্যরস ও যুক্তিনির্ভর আলোচনা, সবই স্বচ্ছন্দে সম্ভব হলো।

বঙ্কিমের ভাষার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো তাঁর বর্ণনার ছবি আঁকার ক্ষমতা। প্রকৃতি, ঘরোয়া পরিবেশ ও মানুষের মনের টানাপোড়েন তিনি এমনভাবে সাজাতেন যে পাঠক কাহিনির ভেতরে ঢুকে পড়তেন। ফলে বাংলা পাঠকসমাজে উপন্যাস পড়ার অভ্যাসও তাঁর সময়ে দ্রুত বিস্তৃত হয়।

উপন্যাসের ক্ষেত্রে তাঁর কয়েকটি অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য:

এই কারণে তাঁকে অনেকে আধুনিক বাংলা উপন্যাসের জনক বা প্রধান স্থপতি বলেন। পাঠকদের মুখে তাঁর জনপ্রিয় উপাধি সাহিত্যসম্রাট।

জাতীয়তাবাদ ও বন্দে মাতরম

বঙ্কিমের লেখায় দেশ, জাতি ও আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে। এই ভাবনারই সবচেয়ে পরিচিত প্রকাশ বন্দে মাতরম গানটি। তিনি গানটি ১৮৭০-এর দশকে রচনা করেন এবং পরে আনন্দমঠ উপন্যাসে যুক্ত করেন। গানে দেশকে মাতৃরূপে বন্দনা করা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এতে সুর দেন এবং ১৮৯৬ সালে কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে তিনি নিজে এটি গেয়েছিলেন। স্বদেশি আন্দোলনের সময় গানটি প্রতিবাদ ও জাগরণের ধ্বনি হয়ে ওঠে।

তথ্যের দিক থেকে সতর্ক থাকুন: ভারতের গণপরিষদ স্বাধীনতার পর বন্দে মাতরমকে জাতীয় সংগীত নয়, জাতীয় গান হিসেবে মর্যাদা দেয়। জাতীয় সংগীত হিসেবে বেছে নেওয়া হয় জন গণ মন। বাংলাদেশ বা নেপালের জাতীয় সংগীতের সঙ্গে বঙ্কিমের কোনো সম্পর্ক নেই।

গান ও উপন্যাসটি নিয়ে বিতর্কও আছে। আনন্দমঠের কাহিনিতে সন্ন্যাসী বিদ্রোহের আড়ালে মুসলমান শাসক ও সম্প্রদায়কে যেভাবে দেখানো হয়েছে, তা নিয়ে অনেক ইতিহাসবিদ ও সমালোচক আপত্তি তুলেছেন। তাঁদের মতে এতে ধর্মীয় বিভাজনের সুর আছে। ফলে গানটির সব স্তবক সব মহলে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য হয়নি, এবং কংগ্রেস পরবর্তীকালে এর শুরুর অংশই সরকারিভাবে ব্যবহারের জন্য বেছে নেয়। বিষয়টি আবেগের চেয়ে ইতিহাসের আলোকে বুঝতে চেষ্টা করাই ভালো।

সমালোচনা ও উত্তরাধিকার

বঙ্কিমের কাজ নিয়ে প্রশংসা যেমন আছে, তেমনি সমালোচনাও কম নয়। সমালোচকদের একটি অংশ বলেন, তাঁর কিছু উপন্যাসে নৈতিক উপদেশ ও আদর্শের চাপ কাহিনির স্বাভাবিকতা কমিয়ে দিয়েছে। আবার কেউ কেউ নারী ও সামাজিক প্রশ্নে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিকে রক্ষণশীল মনে করেন। এসব সত্ত্বেও বাংলা কথাসাহিত্যের পরবর্তী লেখকেরা তাঁর তৈরি পথেই এগিয়েছেন, বিতর্ক বা অনুসরণ, যে ভাবেই হোক।

১৮৯৪ সালের এপ্রিল মাসে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। আজও বিভিন্ন পাঠ্যক্রমে তাঁর রচনা নিয়মিত পড়ানো হয়।

এক নজরে: পরীক্ষার জন্য দ্রুত ঝালাই

বিষয়তথ্য
জন্ম১৮৩৮ সাল, কাঁটালপাড়া, নৈহাটি
মৃত্যু১৮৯৪ সাল, কলকাতা
পিতাযাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
পেশাডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর
প্রথম বাংলা উপন্যাসদুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫)
প্রথম উপন্যাস (ইংরেজি)Rajmohan's Wife
সম্পাদিত পত্রিকাবঙ্গদর্শন (১৮৭২)
স্বদেশচেতনার গানবন্দে মাতরম (আনন্দমঠে অন্তর্ভুক্ত)
জনপ্রিয় উপাধিসাহিত্যসম্রাট

শেষ কথা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যে একসঙ্গে ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, সম্পাদক ও চিন্তাবিদ। তাঁর হাতে বাংলা গদ্য পরিণত হয়েছে, আর উপন্যাস পেয়েছে শক্ত ভিত। তাঁর জাতীয়তাবাদী ভাবনা ও আনন্দমঠ নিয়ে মতভেদ থাকলেও সাহিত্যিক গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন নেই। পরীক্ষার জন্য সাল, রচনার নাম ও পত্রিকার তথ্য মনে রাখুন, আর বিতর্কিত বিষয়ে তথ্যনিষ্ঠ থাকুন।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কবে ও কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?

তিনি ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনার নৈহাটির কাঁটালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মতারিখ নিয়ে কিছু বইয়ে ২৬ ও ২৭ জুনের পার্থক্য দেখা যায়।

বঙ্কিমচন্দ্রের প্রথম বাংলা উপন্যাস কোনটি?

তাঁর প্রথম বাংলা উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনী, প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ সালে। তাঁর প্রথম উপন্যাস অবশ্য ইংরেজিতে লেখা Rajmohan's Wife।

বঙ্গদর্শন পত্রিকা কে প্রকাশ করেন?

বঙ্গদর্শন ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র প্রকাশ করেন এবং শুরুতে নিজেই সম্পাদনা করেন। আনন্দমঠ এই পত্রিকাতেই ধারাবাহিকভাবে ছাপা হয়েছিল।

বন্দে মাতরম গানটি কোন উপন্যাসে আছে?

গানটি বঙ্কিমচন্দ্রের আনন্দমঠ উপন্যাসে অন্তর্ভুক্ত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এতে সুর দিয়েছিলেন।

বন্দে মাতরম কি ভারতের জাতীয় সংগীত?

না, এটি ভারতের জাতীয় গান হিসেবে স্বীকৃত। জাতীয় সংগীত হলো জন গণ মন।