সাময়িক পত্র ও বাংলা গদ্যের বিকাশ: দিগ্দর্শন থেকে কল্লোল

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ · বাংলা সাহিত্য

সংক্ষেপেবাংলা গদ্য কীভাবে সাময়িক পত্রের পাতায় গড়ে উঠল, কোন পত্রিকা কী অবদান রেখেছিল এবং পরীক্ষার জন্য কীভাবে গুছিয়ে মনে রাখবেন, তা এই লেখায় পাবেন।

বাংলা গদ্যের ইতিহাস পড়তে বসলে বারবার একটি শব্দে ফিরে আসতে হয়: সাময়িক পত্র। নির্দিষ্ট বিরতিতে প্রকাশিত পত্রিকা, অর্থাৎ সাপ্তাহিক, মাসিক বা ত্রৈমাসিক কাগজই ছিল গদ্যচর্চার সবচেয়ে বড় কর্মশালা। এখানে লেখক লিখতেন, পাঠক পড়তেন, তর্ক হতো, আর ভাষা ধীরে ধীরে পোক্ত হতো। এই লেখায় আপনি জানবেন, বাংলা গদ্যের বিকাশে সাময়িক পত্রের ভূমিকা কী ছিল, প্রধান পত্রিকাগুলো কারা সম্পাদনা করেছিলেন এবং পরীক্ষার জন্য বিষয়টি কীভাবে গুছিয়ে নেবেন।

গদ্যের জন্য সাময়িক পত্র কেন এত জরুরি ছিল

আধুনিক বাংলা গদ্যের শুরু উনিশ শতকের গোড়ায়। তখন পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যের মূল বাহন ছিল পদ্য। গদ্য ছিল চিঠিপত্র আর দলিলদস্তাবেজের ভাষা। ছাপাখানা আসার পর সেই গদ্যকে নতুন কাজ দেওয়া সম্ভব হলো: খবর জানানো, যুক্তি সাজানো, বিজ্ঞান বোঝানো, গল্প বলা। এসব কাজের জায়গা ছিল বই, আর তার চেয়েও বেশি পত্রিকা।

পত্রিকা গদ্যকে তিনভাবে এগিয়ে নিয়েছে:

এখানে আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখা দরকার। বাংলা গদ্য একদিনে সহজ হয়নি। শুরুর দিকের পত্রিকায় ভাষা কখনও সংস্কৃতঘেঁষা, কখনও ইংরেজি বাক্যগঠনের ছাপ-পড়া ছিল। পাঠকের প্রতিক্রিয়া, লেখকদের পারস্পরিক বিতর্ক আর সম্পাদকের বাছাইয়ের মধ্য দিয়েই ধীরে ধীরে স্বচ্ছন্দ, পরিমিত ও রুচিশীল গদ্যের আদল তৈরি হয়েছে। সম্পাদকেরা এভাবে কেবল কাগজ চালাননি, একটি গোটা লেখক-প্রজন্মকেও গড়ে তুলেছেন। তাই পত্রিকার ইতিহাসকে গদ্যের ক্রমবিকাশের ইতিহাস হিসেবেও পড়া যায়। আরেকটি সুবিধাও ছিল: পত্রিকায় ধারাবাহিক কিস্তিতে লেখা ছাপা হতো বলে লেখক প্রতিটি কিস্তির শেষে পাঠকের আগ্রহ ধরে রাখার কৌশল শিখতেন, আর এই অভিজ্ঞতা থেকেই উপন্যাস ও গল্পের গদ্য আরও সংহত ও গতিময় হয়ে উঠেছে।

শুরুর পর্ব: মিশনারি ও সংস্কারকদের কাগজ

বাংলা ভাষায় সাময়িক পত্রের সূচনা শ্রীরামপুর মিশনের হাত ধরে। ১৮১৮ সালে সেখান থেকে দুটি পত্রিকা বেরোয়, মাসিক দিগ্দর্শন এবং সাপ্তাহিক সমাচার দর্পণ। দুটির সঙ্গেই জড়িয়ে আছেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান। দিগ্দর্শন সাধারণত প্রথম বাংলা মাসিক পত্র হিসেবে স্বীকৃত, আর সমাচার দর্পণকে প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক সংবাদপত্র বলা হয়। দিগ্দর্শনে ইতিহাস, ভূগোল, বিজ্ঞান ও নানা জ্ঞানের কথা সহজ গদ্যে পরিবেশন করা হতো। সমাচার দর্পণ দেশ-বিদেশের খবরের পাশাপাশি সমাজের নানা প্রসঙ্গ তুলে ধরত। এই পত্রিকাগুলোতে গদ্য ছিল বার্তাবাহী ও শিক্ষামূলক, সাহিত্যিক সৌন্দর্য তখনও মূল লক্ষ্য নয়।

এর পরের ধাপে এল দেশীয় উদ্যোগ। ১৮২১ সালে রামমোহন রায়ের উদ্যোগে প্রকাশিত হয় সংবাদ কৌমুদী, যার শুরুর দিকের সম্পাদনায় ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও উল্লেখযোগ্য। এই কাগজে সতীদাহসহ সমকালীন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রশ্নে যুক্তিনির্ভর বিতর্ক চলত। ফলে গদ্য হয়ে উঠল তর্কের হাতিয়ার। ১৮৩১ সালে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রকাশ করেন সংবাদ প্রভাকর, যা পরে দৈনিক রূপ নেয়। সমকালীন ঘটনা, ব্যঙ্গ ও কবিতা মিলিয়ে এটি তরুণ লেখকদের তৈরি হওয়ার জায়গা হয়ে ওঠে।

উনিশ শতকের প্রথম দিকের আরও অনেক পত্রিকার নাম ও প্রকাশকাল নিয়ে বিভিন্ন গ্রন্থে অমিল আছে। পরীক্ষার জন্য আপনার পাঠ্যবইয়ে দেওয়া তারিখই অনুসরণ করুন, আর এই লেখায় যেসব সাল দেওয়া হয়েছে সেগুলো বহুল স্বীকৃত বলে ধরা যায়।

তত্ত্ববোধিনী: চিন্তাশীল গদ্যের চর্চা

১৮৪৩ সালে প্রকাশিত তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা বাংলা গদ্যকে গম্ভীর ও সংহত রূপ দিয়েছিল। এর পেছনে ছিল দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের তত্ত্ববোধিনী সভা, আর প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত। অক্ষয়কুমারের লেখায় বিজ্ঞান, প্রকৃতি, সমাজ ও নীতির আলোচনা পরিচ্ছন্ন, যুক্তিনিষ্ঠ ভাষায় ফুটে উঠত। ধর্মচিন্তা ও দর্শনের পাশাপাশি বিজ্ঞানমনস্ক প্রবন্ধ লেখার এই ধারা বাংলা প্রবন্ধসাহিত্যের ভিত শক্ত করেছে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো মনীষীরাও এই পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা যায়। শিক্ষার্থীর কাছে তত্ত্ববোধিনীর মূল পরিচয়: সংযত, তথ্যনিষ্ঠ ও চিন্তাপ্রধান গদ্যের পাঠশালা।

বঙ্গদর্শন ও সাহিত্যিক গদ্যের উত্তরণ

১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় বঙ্গদর্শন প্রকাশিত হয়। এই কাগজ বাংলা গদ্যের ইতিহাসে মোড়বদল ঘটিয়েছিল, কারণ এখানেই সাহিত্য, সমালোচনা ও মননশীল প্রবন্ধ একসঙ্গে মর্যাদা পায়। বিষবৃক্ষ ধারাবাহিকভাবে এখানে বেরিয়েছিল। বঙ্কিমের হাস্যরস ও আত্মমগ্ন রচনার ধারাও পত্রিকাটির পাতায় জায়গা করে নেয়। এর ফলে পাঠক-লেখকের এমন একটি গোষ্ঠী তৈরি হলো, যারা সাহিত্যকে গুরুত্ব দিয়ে পড়তে ও আলোচনা করতে শিখল। পরে সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কিছুকাল পত্রিকাটি চালান, আর ১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায় এর নবপর্যায় শুরু হয়।

একই সময়ে ঠাকুরবাড়ির আরেকটি উদ্যোগ ছিল ভারতী, যা ১৮৭৭ সালে দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায় যাত্রা শুরু করে। তরুণ রবীন্দ্রনাথের অনেক আদি লেখা এখানে ছাপা হয়েছে। পরে সাধনা (১৮৯১) নামের পত্রিকায় প্রথম কয়েক বছর সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদক ছিলেন, এবং পরে রবীন্দ্রনাথ নিজেই দায়িত্ব নেন। রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প, প্রবন্ধ ও সমালোচনার একটি বড় অংশ এই পর্বে সাধনাকে ঘিরে লেখা হয়।

সবুজপত্র ও কল্লোল: ভাষা ও ভাবনায় নতুন বাঁক

১৯১৪ সালে প্রমথ চৌধুরী প্রকাশ করেন সবুজপত্র। এই পত্রিকার সবচেয়ে বড় অবদান চলিত ভাষার সপক্ষে সচেতন আন্দোলন। সাধুভাষার ভারী কাঠামোর বদলে মুখের ভাষার সতেজ ও প্রাণবন্ত ভঙ্গিকে সাহিত্যের উপযুক্ত বলে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলেছিল এখানে। রবীন্দ্রনাথও এই পত্রিকায় লিখেছেন, এবং তাঁর ঘরে বাইরে উপন্যাস এখানেই প্রকাশিত হয়। ফলে চলিত গদ্য শুধু প্রবন্ধে নয়, কথাসাহিত্যেও দৃঢ় জায়গা পেল।

১৯২৩ সালে দীনেশরঞ্জন দাশের সম্পাদনায় কল্লোল প্রকাশিত হয়, যাঁর সঙ্গে গোকুলচন্দ্র নাগের নামও যুক্ত। কল্লোলকে ঘিরে যে তরুণ লেখকগোষ্ঠী জড়ো হন, তাঁরা রবীন্দ্রনাথের প্রভাব থেকে বেরিয়ে নতুন সুর খুঁজছিলেন। দারিদ্র্য, শহুরে জীবন, মানুষের অন্ধকার দিক ও আধুনিক মনোজগৎ তাঁদের লেখায় উঠে আসে। ফলে গদ্যের ভাষা ও বিষয়, দুই দিকেই আধুনিকতা এল। এই ধারার আরও কয়েকটি পত্রিকার মধ্যে সুধীন্দ্রনাথ দত্তের পরিচয় (১৯৩১) বিশেষভাবে স্মরণীয়।

কালানুক্রমিক ছক: প্রধান সাময়িক পত্র

নিচের তালিকায় শুধু সেই পত্রিকাগুলো রাখা হয়েছে, যাদের সাল ও সম্পাদক সম্পর্কে তথ্য সুপ্রতিষ্ঠিত।

সালপত্রিকাসম্পাদক বা প্রধান উদ্যোক্তাপ্রধান অবদান
১৮১৮দিগ্দর্শন (মাসিক)জন ক্লার্ক মার্শম্যানপ্রথম বাংলা মাসিক; জ্ঞানমূলক সহজ গদ্য
১৮১৮সমাচার দর্পণ (সাপ্তাহিক)জন ক্লার্ক মার্শম্যানপ্রথম বাংলা সাপ্তাহিক সংবাদপত্র; খবরের গদ্য
১৮২১সংবাদ কৌমুদীরামমোহন রায়, ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়সমাজ ও ধর্ম নিয়ে যুক্তিপূর্ণ বিতর্ক
১৮৩১সংবাদ প্রভাকরঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তদৈনিক রূপ পেয়ে লেখক তৈরির ক্ষেত্র
১৮৪৩তত্ত্ববোধিনী পত্রিকাঅক্ষয়কুমার দত্ত (প্রথম সম্পাদক)চিন্তাশীল ও বিজ্ঞানমনস্ক প্রবন্ধ
১৮৭২বঙ্গদর্শনবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়উপন্যাস ও সাহিত্য-সমালোচনার মঞ্চ
১৮৭৭ভারতীদ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরঠাকুরবাড়ির সাহিত্যচর্চার কেন্দ্র
১৮৯১সাধনাসুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর, পরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরছোটগল্প ও প্রবন্ধের বিকাশ
১৯১৪সবুজপত্রপ্রমথ চৌধুরীচলিত ভাষার আন্দোলন
১৯২৩কল্লোলদীনেশরঞ্জন দাশআধুনিকতাবাদী তরুণ লেখকদের কণ্ঠ

পরীক্ষার জন্য কীভাবে মনে রাখবেন

বিষয়টি বড়, তাই তিনটি ধাপে ভাগ করে নিলে সুবিধা হয়।

  1. তিন যুগে ভাগ করুন। প্রথমে মিশনারি ও সংস্কারকের পর্ব (দিগ্দর্শন থেকে সংবাদ প্রভাকর), তারপর মননের পর্ব (তত্ত্ববোধিনী, বঙ্গদর্শন, ভারতী, সাধনা), শেষে আধুনিকতার পর্ব (সবুজপত্র, কল্লোল)।
  2. প্রতিটি পত্রিকার জন্য তিনটি তথ্য। সাল, সম্পাদক এবং একটি বাক্যে প্রধান অবদান। ওপরের ছকটি এই কাজেই ব্যবহার করুন।
  3. জোড়া মিলিয়ে নিন। সবুজপত্র মানে চলিত ভাষা, বঙ্গদর্শন মানে বঙ্কিম ও উপন্যাস, তত্ত্ববোধিনী মানে অক্ষয়কুমার ও যুক্তিনিষ্ঠ প্রবন্ধ। এই ছোট ছোট জোড়া অনেক নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের উত্তর দেয়।

রচনাধর্মী প্রশ্নে সাধারণত জানতে চাওয়া হয়, কোনো একটি পত্রিকা বা সামগ্রিকভাবে সাময়িক পত্র গদ্যের বিকাশে কী ভূমিকা রেখেছে। উত্তরে কালক্রম মেনে লিখুন এবং প্রতিটি অনুচ্ছেদে একটি করে পত্রিকার নির্দিষ্ট অবদান রাখুন। তারিখ নিয়ে সন্দেহ থাকলে নির্ধারিত পাঠ্যবইয়ের তথ্য প্রাধান্য দিন।

শেষ কথা

সাময়িক পত্র না থাকলে বাংলা গদ্য হয়তো এত দ্রুত বা এত বৈচিত্র্য নিয়ে গড়ে উঠত না। খবরের কাগজে গদ্য শিখল তথ্য জানাতে, সংস্কারকের কাগজে শিখল যুক্তি সাজাতে, বঙ্গদর্শনে শিখল সাহিত্য হয়ে উঠতে, আর সবুজপত্র ও কল্লোলে শিখল মুখের ভাষা ও আধুনিক ভাবনা ধারণ করতে। পরীক্ষার আগে ছকটি বারবার পড়ুন, প্রতিটি পত্রিকার সম্পাদক ও অবদান নিজের ভাষায় লিখে অনুশীলন করুন। এতেই বিষয়টি আপনার দখলে আসবে, আর নিজের ভাষায় লেখার অভ্যাসও তৈরি হবে।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

প্রথম বাংলা মাসিক পত্র ও প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক পত্র কোনটি?

সাধারণভাবে দিগ্দর্শনকে প্রথম বাংলা মাসিক পত্র এবং সমাচার দর্পণকে প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক সংবাদপত্র বলা হয়। দুটিই ১৮১৮ সালে শ্রীরামপুর থেকে প্রকাশিত হয়।

বঙ্গদর্শন পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?

১৮৭২ সালে প্রকাশিত বঙ্গদর্শনের প্রথম সম্পাদক ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। ১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায় এর নবপর্যায় শুরু হয়।

তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা বাংলা গদ্যে কী অবদান রেখেছে?

অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় এটি বিজ্ঞানমনস্ক, যুক্তিনিষ্ঠ ও চিন্তাশীল প্রবন্ধের ধারা গড়ে তোলে। ফলে বাংলা গদ্য গম্ভীর বিষয় প্রকাশের সক্ষমতা অর্জন করে।

সবুজপত্র কেন গুরুত্বপূর্ণ?

প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে প্রকাশিত সবুজপত্র চলিত ভাষাকে সাহিত্যের ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়। রবীন্দ্রনাথও এই পত্রিকায় চলিত ভাষায় লিখেছেন।

কল্লোল পত্রিকার বৈশিষ্ট্য কী?

১৯২৩ সালে দীনেশরঞ্জন দাশের সম্পাদনায় প্রকাশিত কল্লোল তরুণ লেখকদের আধুনিক ও বাস্তবনিষ্ঠ সাহিত্যের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠে। এখানে দারিদ্র্য, নগরজীবন ও মনোজগতের নতুন বিষয় গুরুত্ব পায়।